আইফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যায়? ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর ১০টি উপায়
তবে আইফোনের ভেতরেই এমন কিছু সাধারণ সেটিংস আছে, যেগুলো একটু পরিবর্তন করে নিলে এই সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যায়। এর জন্য বারবার চার্জার খোঁজার দরকার নেই। চলুন জেনে নিই ঠিক কী কী পরিবর্তন করলে আইফোনের চার্জ সারাদিন ধরে রাখা সম্ভব।
১. ব্রাইটনেস কমিয়ে অটো-ব্রাইটনেস চালু রাখুন
স্ক্রিনের ব্রাইটনেস যত বেশি থাকে, ব্যাটারি তত দ্রুত খরচ হয়। ফুল ব্রাইটনেসে একটানা ফোন চালালে চার্জ চোখের সামনেই কমতে থাকে। সেটিংসে গিয়ে Auto-Brightness অন করে রাখলে ফোন নিজে থেকেই পরিবেশ অনুযায়ী ব্রাইটনেস কমিয়ে বা বাড়িয়ে নেবে, ফলে অযথা চার্জ নষ্ট হবে না।
২. ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ বন্ধ করুন
অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থেকে ডেটা আপডেট করতে থাকে, যা আমরা টেরই পাই না। Settings > General > Background App Refresh থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোর জন্য এটা বন্ধ করে দিন। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে রিফ্রেশ হওয়ার কোনো দরকার নেই। শুধু যেসব অ্যাপ সত্যিই সবসময় আপডেট থাকা দরকার, সেগুলো চালু রাখাই যথেষ্ট।
৩. লোকেশন সার্ভিস কন্ট্রোল করুন
সবসময় সব অ্যাপের লোকেশন অন থাকলে ব্যাটারির ওপর প্রচুর চাপ পড়ে। ফুড ডেলিভারি বা ম্যাপস ছাড়া সাধারণ অ্যাপগুলোর লোকেশন জানার কোনো দরকার নেই। Settings > Privacy & Security > Location Services থেকে যেসব অ্যাপের সবসময় লোকেশন দরকার নেই, সেগুলোর পারমিশন "While Using the App" করে দিন।
৪. ডার্ক মোড ব্যবহার করার অভ্যাস করুন
আইফোনের ওলেড (OLED) ডিসপ্লেতে কালো রং দেখানোর জন্য পিক্সেলগুলো পুরোপুরি বন্ধ থাকে, যার ফলে ব্যাটারি খরচ হয় না। তাই সেটিংসে গিয়ে ডার্ক মোড (Dark Mode) চালু করে রাখলে আপনার চোখেরও আরাম হবে, আবার ব্যাটারিও অনেকটা বাঁচবে।
৫. অটো-লক টাইম কমিয়ে দিন
স্ক্রিন যত বেশিক্ষণ চালু থাকে, চার্জ তত দ্রুত কমে। ফোন টেবিলে রেখে দেওয়ার পর যদি অনেকক্ষণ স্ক্রিন অন থাকে, তবে সেটা নিছকই চার্জের অপচয়। Settings > Display & Brightness > Auto-Lock থেকে সময়টা ৩০ সেকেন্ড বা সর্বোচ্চ ১ মিনিটে নামিয়ে আনুন।
৬. অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন
সারাদিন নোটিফিকেশন আসলে বারবার স্ক্রিন জ্বলে ওঠে এবং ফোন ভাইব্রেট করে। শপিং অ্যাপ বা গেমের মতো যেসব অ্যাপের নোটিফিকেশন সত্যিকার অর্থে দরকারি নয়, সেগুলো বন্ধ করে দিন। এতে চার্জও বাঁচবে, আর কাজের সময় মনোযোগও নষ্ট হবে না।
৭. প্রয়োজনে লো পাওয়ার মোড অন করুন
চার্জ ২০ বা ৩০ পার্সেন্টে নেমে এলে লো পাওয়ার মোড (Low Power Mode) অন করে নিতে পারেন। এটি ব্যবহার করলে ফোনের কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটি সাময়িকভাবে কমে যায়, ফলে বাকি চার্জ অনেকক্ষণ টিকে থাকে। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থাকলে এই মোড বেশ কাজে দেয়।
৮. উইজেট (Widgets) কম ব্যবহার করুন
হোম স্ক্রিনে ওয়েদার বা নিউজের মতো উইজেটগুলো সুন্দর দেখালেও, এগুলো প্রতি মুহূর্তে আপডেট হতে থাকে এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে চার্জ টানে। তাই যে উইজেটগুলো আপনার খুব একটা কাজে আসে না, সেগুলো রিমুভ করে ফেলাই ভালো।
৯. অপটিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং অন রাখুন
Settings > Battery > Battery Health & Charging-এ গিয়ে Optimized Battery Charging অপশনটি সবসময় অন করে রাখবেন। এটি আপনার চার্জ দেওয়ার রুটিন বুঝে ৮০% এর পর চার্জিং স্পিড কমিয়ে দেয়, যা ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে।
১০. ফোন অতিরিক্ত গরম হতে দেবেন না
তাপমাত্রা ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু। রোদে বা গরম জায়গায় ফোন বেশিক্ষণ রাখলে ব্যাটারির ক্ষমতা কমে যায়। তাই গাড়ির ড্যাশবোর্ডে বা কড়া রোদে ফোন ফেলে রাখার অভ্যাস থাকলে সেটা বদলে ফেলা ভালো। এছাড়া চার্জ দেওয়ার সময় যদি ফোন খুব গরম হয়ে যায়, তবে পেছনের কভারটা খুলে চার্জ দেওয়া উচিত।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
আইফোনের ব্যাটারি হেলথ কত শতাংশ থাকলে স্বাভাবিক ধরা হয়?
সাধারণত ৮০ শতাংশ বা তার বেশি ব্যাটারি হেলথ থাকলে সেটা স্বাভাবিক ধরা হয়। এর নিচে নেমে গেলে চার্জ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
সারারাত চার্জে বসিয়ে রাখলে কি ব্যাটারির ক্ষতি হয়?
আইফোনের অপটিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং ফিচার থাকায় সারারাত চার্জে রাখলে সাধারণত বড় কোনো ক্ষতি হয় না। তবে সবসময় ১০০% চার্জে ফেলে রাখাটা দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।
কতদিন পরপর আইফোনের ব্যাটারি পরিবর্তন করা উচিত?
ব্যাটারি হেলথ ৮০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে বা চার্জ খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেলে ব্যাটারি পরিবর্তনের কথা ভাবা যেতে পারে। এটা মূলত আপনার ব্যবহারের ধরন ও সময়ের ওপর নির্ভর করে।
শেষ কথা
এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো একবার রপ্ত করে ফেললে আইফোনের চার্জ নিয়ে দিনের পর দিন দুশ্চিন্তা করতে হবে না। সবগুলো সেটিংস একসাথে না করে চাইলে প্রথমে দুই-একটা দিয়ে শুরু করতে পারেন। একটু সচেতন হলে আইফোনের ব্যাটারি লাইফ অনেক দিন পর্যন্ত ভালো রাখা সম্ভব।


.jpg)


.webp)